1. admin@channel21tv.com : channel21tv.com :
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

দীঘিনালায় সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহ নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে বাধাদানের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিলl

রুপক চাকমা, রাঙ্গামাটি
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২
  • ৭৯ বার পঠিত

সেনাবাহিনী কর্তৃক বাবুছড়া ইউনিয়ন ও দীঘিনালা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে বাধাদানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও দীঘিনালা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

আজ রবিবার (৬ নভেম্বর ২০২২) সকাল ৯:২০ টায় বাবুছড়া নুয়োবাজার থেকে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাবুছড়া মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তা ঘুরে কিয়াংঘাট বাবুছড়া মূখ উচ্চ বিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে আবার বাবুছড়া নুয়োবাজার চৌমুহনী সংলগ্ন বাজারে এসে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

এ সময় এলাকাবাসী বিভিন্ন দাবি সম্বলিত শ্লোগান দেন ও ব্যানার-প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এতে এলাকার দুই সহস্রাধিক নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

‘জনগণের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দাও’ শ্লোগানে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ জীবন চাকমা।

এতে বাবুছড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার নিপন চাকমার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা, দীঘিনালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক দীপুলাক্ষ চাকমা, সমাজকর্মী অলকেশ চাকমা, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার প্রতিভা চাকমা, বাবুছড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার গগণ বিকাশ চাকমা, মুড়ো পাড়া গ্রামের কার্বারি জ্ঞান মুনি চাকমা ও সাধন চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে দীঘিনালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা বলেন, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে হঠাৎ করে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী আনতে গিয়ে সেনাবাহিনী বাধা দেয়া শুরু করে। এর পর থেকে এই এলাকার জনগণ খুবই কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমরা জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীরা জোন কমান্ডারের কাছে গিয়েছি, জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু সরকার আমাদের কোন প্রতিকারমূলক উদ্যোগ নেয়নি। তার কারণেই আজকে আমরা এই বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়েছি। সরকার যাতে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার করে এলাকার জনগণকে দুর্দুশা মুক্তি দেয় তার জন্য আমরা এই সমাবেশ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাবেক চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা বলেন, সেনাবাহিনী কর্তৃক বাধা প্রদানের কারণে আমরা গৃহনির্মাণ সামগ্রি আনতে পারছি না। আমাদের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি শুধু বাঙালি জাতির প্রধানমন্ত্রী নন, বাংলাদেশের সকল জনগোষ্ঠির প্রধানমন্ত্রী। আপনি জানেন, সেনাবাহিনীর বাধার কারণে আমরা ঘর নির্মাণের জন্য কোন মালামাল আনতে পারছি না। তার জন্য আজকে আমরা এই প্রতিবাদ করছি। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মিটিং-মিটিং করে যাবো।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র হলো একটি জাতিকে নিধন করার জন্য। আমরা কি দোষ করেছি? আমরা ডিসির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে যে স্মারকলিপি দিয়েছি তার উত্তর এখনো পাচ্ছি না কেন?

তিনি বলেন আমরা অধিকার আদায়ের জন্য যা কিছু করা দরকার তাই করবো। আমাদের অধিকার আমরা আনবোই আনবো। এই বাধা আমরা অতিক্রম করবোই।

অলকেশ চাকমা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে দেশের সকল জাতিসত্তা, সকল জনগোষ্ঠি, সকল শ্রেণী, সকল সম্প্রদায় সমান অধিকার ভোগ করবে। যখন আমাদেরকে এখানে ইট, সিমেন্ট নিতে দেওয়া না হয়, বাধা প্রদান করা হয় তখন আমরা মনে করি এটা সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কারণ এখানে শুধুমাত্র আমরা যারা পাহাড়ি জনগোষ্ঠির লোক আছি, পাহাড়ি জাতিসত্তার লোক আছি আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে, হেনস্থা করা হচ্ছে, অপদস্থ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এদেশে জায়াগা দেয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীকে মানবতার মা আখ্যা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই মানবতার মায়ের কাছে বাবুছড়াবাসীর কোন দাম নেই, কোন গুরুত্ব নেই। আমরা বিমাতাসূলভ আচরণ পাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়, ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়। আমাদের এই বাবুছড়া থেকে অনেক বাঁশ নিয়ে যাওয়া হয় রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি নির্মাণ করার জন্য। কিন্তু যারা এখানকার ভূমিপুত্র, এখানকার সন্তান তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পারি না। আমরা কোন নির্মাণ সামগ্রী আনয়ন করতে পারি না। আমাদেরকে হেনস্থা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা কোন বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন সংস্থার বিরুদ্ধে বলতে আসি নাই। আমরা আইনের কথা বলতে এসেছি। আমাদেরকে দেখিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশের কোন আইনে, কোন বিধানে, কোন ধারায় উল্লেখ আছে যে, একটি এলাকাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে, একটি এলাকাবাসীকে অবরুদ্ধ করে রাখা যাবে, কোন জনগোষ্ঠিকে ঘরছাড়া করে রাখা হবে, ঘর তুলতে দেওয়া হবে না, বিহার নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না, সংস্কার করতে দেওয়া হবে না। এটা আমরা জানতে চাই। যদি এটা দেখিয়ে দেওয়া না হয় তাহলে সরকারকে স্বীকার করতে হবে যে আমাদের উপর যা হচ্ছে এটা বেআইনি, এটা অবৈধ। এই বেআইন কার্যক্রম ও নিপীড়ন নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা জনগণ রাজপথে থেকে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই প্রতি ইঞ্চি জায়গা আবাদ করার কথা বলেন। কিন্তু আমাদের সাথে যদি এই আচরণ করা হয় তাহলে আমরা আমাদের চাষাবাদ, কৃষি কার্যক্রম কিভাবে করবো?

অলকেশ চাকমা আরো বলেন, এই এলাকার মানুষ অন্য কোন জায়গা থেকে আসে নাই। আজকে এই সমাবেশে যারা এসেছেন তারা সবাই ভুক্তভোগী, নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার। তারা তাদের মনের কথাগুলো বলতে এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে প্রতিকারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ স্মারকলিপির প্রতিউত্তর আমরা এখনো পাই নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত এর সুদুত্তর পাওয়া যাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
  • © All rights reserved © 2022 Channel21tv.Com
Design & Development By Hostitbd.Com